এমন হতশ্রী ও অনুজ্জ্বল ব্যাটিং দিয়ে কী জিম্বাবুয়েকে হারানো সম্ভব?

জিম্বাবুয়াইনরা পারে। সেটা যে পারে, শেষ দুই ম্যাচেই দেখিয়ে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও ঝড়ো ব্যাটিং করেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঝড়ো ব্যাটিং করতে পারেনি; কিন্তু বোলিংয়ে পুষিয়ে দিয়েছে তারা। ১৩০ রান করেও মাত্র ১ রানে পাকিস্তানকে হারানো চাট্টিখানি কথা নয়।

অন্যদিকে ডি কক, রাইলি রুশো, ট্রিস্টান স্টাবস এবং ডেভিড মিলাররা নিজেদের দিনে যে কোন মাঠে যে কোনো দলের বোলিংকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারেন।

এই তো সেদিন মাজুরাবানি, তেন্দাই চাতারা আর সিকান্দার রাজার গড়া জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের বিপক্ষে ৩ ওভারে ৫১ করে তা জানান দিয়েছিলেন ডি কক। সেই দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সিডনিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০ ওভারে ২০৫ রান করেছে, সেটা কি খুব বেশি?

অতিবড় ক্রিকেট পন্ডিতও বলছেন না, মোটেই তা নয়। ডি কক, রাইলি রুশোরা যেদিন নিজেদের খুঁজে পান, প্রতিপক্ষ বোলারকে ইচ্ছেমত পেটান। চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ছোটান- সেদিন আর বোলারদের কিই বা করার থাকে?

বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা খেলা শেষে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের সঙ্গে কথোপকোথনে টাইগার ক্যাপ্টেন সাকিবের কথার সুরও ছিল তেমনি।
সত্যিই তাই। তাসকিনের প্রথম ওভারে প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর রাইলি রুশো আর ডি কক যে আত্মবিশ্বাসী আর খুনে ব্যাটিং করেছেন, তা থামানো আসলে যে কোন বোলিং শক্তির জন্যই ছিল কঠিন কাজ। তাসকিন, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজ, সাকিব আর মিরাজরা সে চ্যালেঞ্জিং কাজটা করতেও পারেননি।

কিন্তু তারপর নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান, আফিফ হোনে ধ্রুব, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নুরুল হাসান সোহান ও মেহেদি মিরাজরা খাপছাড়া, দায়িত্ব ও লক্ষ্যহীন ব্যাটিং করে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন। যা অনেক বেশি চোখে লেগেছে। সেটা নিয়েই কথা হচ্ছে বেশি।

সাকিব আর পেসার হাসান মাহমুদ শেষ ৫ ওভারে সেই রান তোলার উত্তাল গতি কমিয়ে দেন কিছুটা। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ৫ ওভারে ২৯ রানের বেশি করতে পারেনি প্রোটিয়ারা। ৩টি উইকেটও খুইয়েছে। আর তাই স্কোর ২০৫। না হয় সেটা ২৩০ ছাড়িয়ে যেতে পারতো।

এ প্রতিবেদনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বাংলাদেশের ব্যাটিং। আজ সাকিববাহিনী যারপরনাই খারাপ ব্যাটিং করেছে। বৃহস্পতিবার সিডনিতে নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব, আফিফ, মোসাদ্দেক, নুরুল হাসান সোহান আর মিরাজরা যে ব্যাটিংটা করেছেন, সেটা বিশ্বকাপের মত বড় মঞ্চের মানের ব্যাটিং নয়? বাংলাদেশের অন্ধ সমর্থকও মানছেন যাচ্ছেতাই ব্যাটিং করেছেন ব্যাটাররা। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে শুধু বিশ্বকাপে নয়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে পরাজয় এটা।

এই বিশাল পরাজয় কেন? সবাই রাইলি রুশোর অসামান্য উইলোবাজির কথাই বলছেন। দক্ষিণ আফ্রিকানরা বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন, তা বলছেন না কেউই। আসল কথা হলো বাংলাদেশের ব্যাটাররা খারাপ খেলেছেন। খারাপ তারা বেশ কিছুদিন ধরেই খেলছেন। এমনকি নেদারল্যান্ডসের সঙ্গেও ব্যাটিং ভাল হয়নি। ১৪৪-এ থেমে ছিল স্কোর। আজকের ব্যাটিং হয়েছে তারচেয়েও খারাপ।

লক্ষ্য অনেক বড়, ধীরে-সুস্থে ব্যাটিং করে ২০৫ রান করা সম্ভব নয়। ব্যাটাররা চালিয়ে খেলতে গিয়ে উইকেট দিয়ে আসলে তবু একটা কথা ছিল; কিন্তু তাও হয়নি। শুরুতে সৌম্যর (৬ বলে ১৫) পরপর দুই বলে ফ্লিক করে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানো ছাড়া পুরো ইনিংসে একজন ব্যাটারের ব্যাট এক মুহূর্তের জন্য হাসেনি।

শান্ত (৯ বলে ৯), সাকিব (৪ বলে ১), আফিফ (৫ বলে ১), মোসাদ্দেক (০) আর সোহান (৬ বলে ২) না পেরেছেন মারতে, না পেরেছেন উইকেটে টিকে থেকে রান করতে। কি করবেন, মারবেন না উইকেটে থেকে খেলবেন, ঠাউরে উঠতে না উঠতেই এলোমেলো শট খেলে আউট হয়ে এসেছেন।

লিটন দাস (৩১ বলে ৩৪) আর মিরাজ (১৩ বলে ১১) দুই অংকে পৌঁছালেও যে গতি ও ছন্দে ব্যাট করার কথা, তার কিছুই পারেননি। জিততে না পারলেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা যদি হাত খুলে উইকেটের চারদিকে আক্রমণাত্মক শট উপহার দিয়ে ১৬০-১৭০ পর্যন্ত যেতে পারতেন, তাহলেও একটা কথা ছিল।

ওই অ্যাপ্রোচ আর সম্মাজনক পুঁজিটা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরের খেলায় অনুপ্রেরণা আর ভাল করার রসদ হিসেবে কাজে দিত; কিন্তু এখন যে করুণ পরিনতিটা হয়েছে, তা কিন্তু পরের ম্যাচে ভাল করার পথে অন্তরায়। শেষ কথা হলো ব্যাটিংয়ের এমন হতচ্ছিরি শ্রীহিন অবস্থা এবং অনুজ্জ্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারলে জিম্বাবুয়ের সঙ্গেও পারা কঠিন হবে।

এই জিম্বাবুয়ে বোলিং দিয়ে যেভাবে পাকিস্তানকে আটকে দিয়েছে, ১৩০ রান করেও তাকে ডিফেন্ড করে ম্যাচ জিতে নিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। সিকান্দার রাজাদের এই বোলিংয়ের বিপক্ষে কী করবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা?

Share this post

PinIt
scroll to top