এক মিনিট না খেলেও বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার তারা

বিশ্বকাপে খেলা ও বিশ্বকাপ জয় একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এমনও ফুটবলার আছেন যারা বিশ্বকাপে এক মিনিট না খেলেও বিশ্বকাপজয়ী সদস্য। না খেলেও নিজের নামের সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বকাপজয়ী।

এখন পর্যন্ত ১০১ জন ফুটবলার বিশ্বকাপ জিতেছেন মাঠে না নেমেই। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৩ জন গোলরক্ষক, ৩২ জন ডিফেন্ডার, ১৮ জন মিডফিল্ডার ও ১৮ জন স্ট্রাইকার।

ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য রোনালদো নাজারিও না খেলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ নিয়েছিলেন একবার। ১৯৯৪ সালে ব্রাজিল যখন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জিতেছিল, তখন ব্রাজিল স্কোয়াডে ছিলেন রোনালদো। তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। পুরো টুর্নামেন্টেই তিনি ছিলেন বেঞ্চের খেলোয়াড়।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। দলের গোলরক্ষক পেপে রেইনা, ভিক্টর ভালদেজ, ডিফেন্ডার রাউল আলবিওলকে এক মিনিটের জন্যও ব্যবহার করেননি দলটির কোচ ভিসেন্তে দেলবস্ক।

বিশ্বকাপ জেতা কঠিন কাজ। পরপর দুই বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়া আরো কঠিন। পরপর দুটি বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে থেকেও না খেলতে পারাটা আরও ব্যতিক্রমী ঘটনা। ফ্রান্সের গোলরক্ষক আলফোনসে আরেওলার সেই অভিজ্ঞতা হতে পারে রোববার রাতে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে।

চলতি বিশ্বকাপে তার যে মাঠ নামা হয়নি এক মিনটের জন্যও। তিনি ২০১৮ বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স দলের সদস্য ছিলেন। প্রত্যেকটি ম্যাচই তিনি দেখেছেন বেঞ্চে বসে। ফাইনালে যদি খেলার সুযোগ না পান এবং ফ্রান্স জিতে যায় তাহলে তিনিই হবেন দুটি বিশ্বকাপে না খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া দেশটির প্রথম ফুটবলার।

তবে তিনি এমন অভিজ্ঞতার প্রথম ফুটবলার হবেন না। এর আগে ইতালিয়ান গোলরক্ষক গুইদো মাসেত্তির এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ বিশ্বকাপে। ওই দুইবার ইতালি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দুই বিশ্বকাপে স্কোয়াডে থেকেও খেলা হয়নি এক মিনিটের জন্যও।

মাসেত্তির ২৪ বছর পর আরেক গোলরক্ষকের হয়েছিল দুই বিশ্বকাপের দলে থেকেও না খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা। তিনি ব্রাজিলের গোলরক্ষক কার্লোস জোসে কাস্তিলহো। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাজিল। ওই বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থেকেও কোন ম্যাচে মাঠ নামা হয়নি তার।

ব্রাজিলের আরো এক ফুটবলারেও একই অভিজ্ঞতা হয়েছিল ওই দুই বিশ্বকাপে। হোসে মাচিয়া যিনি বেশি পরিচিত ছিলেন পেপে নামে। তিনি ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন কোন ম্যাচ না খেলে।

কাতার বিশ্বকাপের ফাইনাল্টি দুই দল আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের কোচ ২৬ স্কোয়াডের মধ্যে ২৪ জন ফুটবলার নিয়ে কাজ করেছেন। আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলি ও ফ্র্যাংকো আরমানি এবং ফ্রান্সের গোলরক্ষক আলফোনসে আরেয়োলা ও ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমা দলের স্কোয়াডে থেকেও নেই। তবে দল চ্যাম্পিয়ন হলে তারা হয়ে যাবেন বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার।

Share this post

PinIt
scroll to top