করোনার ক্ষতি পোষাতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বিশেষ প্রকল্প

করোনায় দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর ক্ষতি পোষাতে ‘বাংলাদেশ কোভিড-১৯ স্কুল সেক্টর রেসপন্স’ নামের বিশেষ প্রকল্প নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পে ১৫ মিলিয়ন বা ১২৬ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিচ্ছে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই)।

বাংলাদেশের পক্ষে গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সংস্থার কাছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন ২০ মিলিয়ন ডলার চেয়ে আবেদনের উদ্যোগ নেন। এর বিপরীতে ১৫ মিলিয়ন বা ১২৬ কোটি টাকা দিতে সম্মত হয় সংস্থাটি।  বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে টাকা ছাড় করা হবে।

জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন প্রথম খবর কে বলেন, ‘স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গেই প্রকল্পের মাধ্যমে সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে যেসব নির্দেশনা তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়নে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সরকারের কোনও অর্থ ব্যয় হবে না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর চলবে এই প্রকল্প। প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় চাইলে পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই)। আর প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কমিটিতে থাকবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রকল্প অনুযায়ী নতুন শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়ে ভর্তি, শিক্ষার্থী মূল্যায়নে (পরীক্ষা) ও লেখাপড়ার ক্ষতি পূরণে সহায়তা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা দেওয়া, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা, দূরশিক্ষণ কার্যক্রমকে অব্যাহত রাখা এবং বিদ্যালয়ের সঙ্গে দূরশিক্ষণ কার্যক্রমকে একীভূত করা হবে।

জরুরি পরিস্থিতি বা দীর্ঘসময় স্কুল বন্ধের পরিস্থিতিতে কৌশল ও মানসম্মত কার্যপ্রণালি প্রণয়নে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা সেবা নিশ্চিত করা হবে প্রকল্পের মাধ্যমে।  বিদ্যালয় খোলার পর প্রায় ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী দেওয়া হবে। পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিশেষ স্কিম।

প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশ্য

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে কোভিড-১৯ সংকট মোকাবিলা এবং উত্তরণের জন্য বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত করোনা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা, প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫ লাখ শিক্ষার্থীকে একীভূত দূরশিক্ষণ (টিভি, রেডিও ও অনলাইন) সহায়তা দেওয়া।  এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ছাত্র এবং ১২ লাখ ৯৫ হাজার ছাত্রী রয়েছে।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য পূরণে ৩২ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরের সরকারি বিদ্যালয়ে পুনঃভর্তি (যারা চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিল) নিশ্চিত করা হবে। এর মধ্যে ১৫ লাখ ৯০ হাজার ছাত্র ও ১৬ লাখ ৫০ হাজার ছাত্রী রয়েছে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থার সঙ্গে দূরশিক্ষণ কার্যক্রমকে পুরোপুরি কার্যকর ও একীভূত করা হবে প্রকল্পের মাধ্যমে।  প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পুরো শিক্ষাবর্ষের জন্য পূর্ণাঙ্গ ও যথাযথ ডিজিটাল কনটেন্ট সমৃদ্ধ ৩৫টি বিষয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

দুর্গম এলাকার এক লাখ ৫০ হাজার শিশুকে শিক্ষা উপকরণ দেওয়া হবে। স্কুল বন্ধ থাকায় ১৫ লাখ শিশু-শিক্ষার্থীকে করোনার নেতিবাচক প্রভাব থেকে উত্তরণ ঘটাতে প্রচারণা চালানো হবে।  নিরাপদ বিদ্যালয় খোলার পরিকল্পনা অনুযায়ী আবার ২০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা হবে। শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি, বিদ্যালয় বন্ধের কারণে শিক্ষার ক্ষতি পরিমাপ করতে ৩ লাখ ৫০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া ২ লাখ শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া।

করোনার সংকটে যেসব শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে তাদের আবার স্কুলে ভর্তিতে সহায়তা করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে (পরীক্ষা) ও  লেখাপড়ার ক্ষতি পূরণে সহায়তা করা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সেবা দেওয়া হবে। সব কার্যক্রমের কারিগরি সহায়তা সেবা নিশ্চিত করা হবে প্রকল্প থেকে।

বিদ্যালয় ব্যবস্থার জন্য মানসম্মত জরুরি পরিচালনা কার্যপ্রণালি তৈরি করা এবং শিখন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সরাসরি ইন্টারভেশন থেকে ৩ কোটি ৫৯ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। অসম পঠন-পাঠন সমস্যার সমাধান করাও হবে এই প্রকল্পের একটি কার্যক্রম।

Share this post

PinIt

Leave a Reply

Your email address will not be published.

scroll to top